23
Sharesসিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা আগে যে সব সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থান করছিল, সেগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন নিজেদের হাতে নিয়েছে দেশটি। বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়ে দামেস্ক বলেছে, কুর্দি নেতৃত্বাধীন যোদ্ধাদের জাতীয় কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ারই প্রতিফলন এই হস্তান্তর।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাসাকাহ প্রদেশে অবস্থিত কাসরাক বিমানঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও সরঞ্জামের শেষ বহরটি চলে যাওয়ার পরই এই ঘোষণা আসে। ২০১৪ সালে আইএসআইএল (আইএসআইএস)-বিরোধী লড়াইয়ে অংশ নিতে কুর্দি যোদ্ধাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীই ‘সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস’ (এসডিএফ) নামে পরিচিতি পায়।
বৃহস্পতিবার দামেস্কে এসডিএফের দুই শীর্ষ নেতা—সামরিক কমান্ডার মাজলুম আবদি এবং রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইলহাম আহমাদের সঙ্গে বৈঠক করেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ হাসান আল-শাইবানি এবং সমন্বয় প্রক্রিয়া তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ঘাঁটিগুলোর এই পূর্ণ হস্তান্তর দেশের সীমান্ত অঞ্চলসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে একক রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের আওতায় আনার সরকারের প্রচেষ্টারই প্রতিফলন। দীর্ঘদিন এসব অঞ্চল দামেস্কের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয়ের ভিত্তিতেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। গত নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে যে গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তা এই প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রেখেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, ‘পরিকল্পিত ও পরিস্থিতিনির্ভর রূপান্তরের অংশ হিসেবে সিরিয়ায় আমাদের সব প্রধান ঘাঁটি হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।’
এর আগে জানুয়ারিতে দামেস্ক ও এসডিএফের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নীরব সমর্থনে উত্তর ও পূর্ব সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল এসডিএফ। মার্চে নতুন করে সমঝোতায় পৌঁছানোর আগে স্বল্প সময়ের সংঘাতে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ওই অঞ্চলের বড় অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।
গত নভেম্বরে আইএসআইএলবিরোধী আন্তর্জাতিক জোটে যোগ দেয় সিরিয়া। এতে দেশটির ভূমিকা নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হয়—প্রতিবন্ধকতার বদলে অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয় দামেস্ক। এর ফলে সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির যৌক্তিকতাও মৌলিকভাবে পরিবর্তিত হয়।
সিরিয়া-বিষয়ক বিশ্লেষক চার্লস লিস্টারের মতে, সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি এড়াতে শেষ দফায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও সরঞ্জাম ইরাকের পরিবর্তে জর্ডান হয়ে স্থলপথে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আলজাজিরা/ওয়াইএফ-০১