23
Sharesঘন ঘন বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত সিলেটের জনজীবন। নগরের পাশাপাশি ভোগান্তি প্রান্তিক জনপদেও। দিনের বিভিন্ন সময়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। বিশেষ করে শিশু, শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের দুর্দশা চরমে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ না থাকলে তারা সংশ্লিষ্ট বিভাগে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন, কিন্তু বেশিরভাগ সময় ফোন রিসিভ করা হয় না। কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় দৈনন্দিন কার্যক্রম ও দাপ্তরিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভরশীল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় কার্যক্রম সচল রাখতে পারছে না।
লামাবাজারের ব্যবসায়ী নাসিম হোসেন বলেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে আমরা অতিষ্ঠ। এভাবে বারবার বিদ্যুৎ চলে গেলে ব্যবসা পরিচালনা করা অসম্ভব।
জিন্দাবাজারের ব্যবসায়ী জুনেদ আহমদ জানান, কয়েক দিন ধরে বিদ্যুতের এই লুকোচুরিতে তার ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তিনি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলা শাখার মহাসচিব আব্দুর রহমান রিপন জানান, সরকারের নির্দেশনা মেনে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে মার্কেট বন্ধ রাখা হলেও দিনের বেলায় লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, জেনারেটর চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের সংকট থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সিলেট বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন জানান, বৃহত্তর সিলেটে বর্তমানে পিডিবির দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ১৭৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে কেন্দ্রীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৪৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ৩০ মেগাওয়াট ঘাটতির কারণে এই লোডশেডিং হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুতের চাহিদাও এর চেয়ে বেশি বলে জানান তিনি।
কালবেলা/ওয়াইএফ-০১