আন্তর্জাতিক



দেশদর্পণ ডেস্ক

মার্চ / ৩০ / ২০২৬


ইসরায়েলের রাসায়নিক কারখানায় ইরানি ক্ষেপনাস্ত্র হামলা, বিষাক্ত গ্যাস ছড়ানোর শঙ্কা


36

Shares


নেওত হোভাভ শিল্পাঞ্চলে আতঙ্ক; পরে ‘নিরাপদ’ ঘোষণা, বীরশেবায় আরেক হামলায় আহত ১১


ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে একটি রাসায়নিক কারখানায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আগুন লাগার ঘটনা ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছে। 

রবিবার (২৯ মার্চ) ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ‘খণ্ডাংশ’ দক্ষিণাঞ্চলের নিওট হোভাব শিল্পাঞ্চল-এর একটি রাসায়নিক কারখানায় আঘাত হানে। এতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং বিষাক্ত রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। 

হামলার পরপরই বীরশেবা শহরের কাছাকাছি ওই শিল্পাঞ্চলের বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে সতর্ক করে আইডিএফ-হোম ফ্রন্ট কমান্ড। তারা সারের কারখানায় আঘাতের পর বিপজ্জনক রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা করছিল। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর পরিবেশ সংরক্ষণ মন্ত্রণালয় জানায়, সাধারণ মানুষের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই। মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইদিত সিলমান জানান, ঘটনাস্থলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পরিস্থিতি নিরাপদ বলে নিশ্চিত হওয়ায় সড়ক খুলে দেওয়া হয়েছে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়েছে।

এদিকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া কারখানার শ্রমিকদেরও পরে বের হয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।


আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকল ও উদ্ধার অভিযান

সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি কারখানায় আঘাত না করলেও এর একটি অংশ সেখানে পড়ে বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটায়। দমকল ও উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাসায়নিক সংরক্ষণ ইউনিটগুলো সিল করে দেন। দক্ষিণাঞ্চলীয় দমকল বিভাগের উপপ্রধান ইৎজিক লেভি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কনটেইনারগুলোতে কীটনাশক সংরক্ষিত ছিল।


এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাটি ছিল কৃষি রাসায়নিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এডামা-এর মাকতেশিম প্ল্যান্ট, যা চীনা মালিকানাধীন সিনজেনটা গ্রুপের অংশ। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা যায়নি।


বীরশেবায় আরেক হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক বাড়ি

কারখানায় হামলার কিছুক্ষণ পরই ইরানের আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র দক্ষিণাঞ্চলের বীরশেবা শহরে আঘাত হানে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের বাড়িঘরের জানালা ভেঙে যায় এবং প্রায় ১০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার মধ্যে কিছু বাড়ি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ ছিল, তবে আমরা সবাই নিরাপদ আছি।’

জরুরি সেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড অ্যাডম জানায়, বিস্ফোরণের অভিঘাতে উড়ে আসা বস্তুতে ১১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া আতঙ্কজনিত সমস্যায় আরও ২০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ৩১ জনকে সোরোকা মেডিকেল সেন্টার-এ নেওয়া হয়।


ইরানের ধারাবাহিক হামলা, পাল্টা জবাবে ইসরায়েল

দিনজুড়ে ইরান থেকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়, যার কিছু প্রতিহত করা হয়েছে। একইসঙ্গে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়ে উত্তরের পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি বিমান বাহিনী গত একদিনে ইরানের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে ১৪০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে আইডিএফ।


সংঘাতের বিস্তার, নতুন পক্ষের অংশগ্রহণ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে ইরান অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোও ইরাক ও লেবাননে হামলা চালিয়েছে।

এদিকে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। এ ঘটনাকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তারের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল। ফ্রান্স এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে।


হুথিদের হামলা নিয়ে উদ্বেগ, উত্তেজনা না বাড়ানোর আহ্বান ফ্রান্সের

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী ইসরায়েলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন এক হুথি মুখপাত্র।

হুতি মুভমেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ‘বহু গুরুত্বপূর্ণ ও সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালনা করেছে।

এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়তে থাকায় ফ্রান্স কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র প্যাসকেল কনফাভ্রেক্স হুথিদের সকল ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি এই কর্মকাণ্ডকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, চলমান সংঘাত যেন আরও বড় আকার ধারণ না করে, সেজন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা জরুরি। ইতোমধ্যেই এই সংঘাতে পুরো অঞ্চলে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।


টাইমস অব ইসরাইল থেকে অনুদিত/ওয়াইএফ-০১

আন্তর্জাতিক