22
Sharesইতিহাসে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ান সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দেবেন একজন নারী। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর নেতৃত্বে রদবদলের অংশ হিসেবে এ দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে তাকে। এটি কার্যকর হলে আধুনিক পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি দেশের পুরো সেনাবাহিনী নেতৃত্ব দিবেন সুসান কয়েল।
সোমবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সরকার। এতে বলা হয়, লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কয়েল জুলাই মাসে হবেন সেনাবাহিনী প্রধান। লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইমন স্টুয়ার্টের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি।
কয়েলের এই নিয়োগ এমন এক সময়ে এসেছে যখন অস্ট্রেলিয়ার সামরিক বাহিনী নারী কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়াতে চাইছে। দেশটির কাঠামোয় ব্যাপক যৌন হয়রানি ও বৈষম্যের অভিযোগ আছে।
কয়েলের নিয়োগকে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে অভিহিত করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস।
এ বিষয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের ভাষ্য, জুলাই মাস থেকে অস্ট্রেলিয়ান সেনাবাহিনী পেতে যাচ্ছে ১২৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী সেনাপ্রধান।
কয়েলের এই অর্জন বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ান প্রতিরক্ষা বাহিনীতে কর্মরত নারীদের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই বাহিনীতে যোগদানের কথা ভাবছেন এমন নারীদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
৫৫ বছর বয়সী কয়েল ১৯৮৭ সালে যোগ দেন সেনাবাহিনীতে। বেশ কয়েকটি ঊর্ধ্বতন কমান্ড পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। অজি সেনাবাহিনীর যেকোনো শাখার নেতৃত্বদানকারী প্রথম নারী হবেন কয়েল।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ান প্রতিরক্ষা বাহিনীতে (এডিএফ) নারীদের সংখ্যা প্রায় ২১ শতাংশ। শীর্ষ পদে তাদের হার সাড়ে ১৮ শতাংশ। এডিএফ ২০৩০ সালের মধ্যে নারীদের সার্বিক অংশগ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ২৫ শতাংশ।
গত অক্টোবরে, একটি ক্লাস অ্যাকশন মামলা দায়ের করা হয় অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স ফোর্সের বিরুদ্ধে। যেখানে অভিযোগ করা হয়, হাজার হাজার নারী কর্মকর্তাকে পরিকল্পিত যৌন নিপীড়ন, হয়রানি এবং বৈষম্য থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে এডিএফ।
২০২২ সালে প্রথম নারী হিসেবে কোনো সামরিক শাখার (কোস্ট গার্ড) নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রে লিন্ডা এল. ফ্যাগন। পেন্টাগনের নিয়োগে ২০২১ সালে জেনারেল লরা জে. রিচার্ডসন প্রথম নারী হিসেবে নেতৃত্ব দে একটি ভৌগোলিক যুদ্ধে।
কিন্তু আধুনিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি দেশের পুরো সেনাবাহিনী নেতৃত্ব দিবেন সুসান কয়েল।
রয়টার্স-০১/ওয়াইএফ-০৩