171
Shares| হামজার পজিশন যা-ই হোক, সেট পিসে তো আর বাধা নেই। আর তিনি দলের সবার চেয়ে বলটা দেখেন আগে, যে দক্ষতায় শিলংয়ে সুনীল ছেত্রীর হেড তিনি রুখে দিয়েছিলেন, সেই একই রকমভাবে জামাল ভূঁইয়ার কর্নারে সবার আগে মাথা ছুঁইয়ে বলটা পাঠিয়েছেন জালে। ম্যাচের তখন মাত্র ৬ মিনিট। সংস্কারে নতুন রূপ পাওয়া ঢাকা স্টেডিয়ামে ফুটবল উত্সবের বোধন এর চেয়ে রঙিনভাবে বোধ হয় আর হতে পারত না। |
হামজা চৌধুরীর গোলে বোধন ফুটবল উৎসবের। উৎসবই তো, কিছুদিন ধরে মানুষ অপেক্ষা করে আছে এই সময়টারই। সেটির মূল আয়োজন যদি হয় ১০ জুন, তবে গতকাল ছিল তার শুভারম্ভ। ঢাকার মাঠে প্রথম খেলতে নেমে সেই শুরুটা রাঙিয়েছেন হামজা।
তিনি মিডফিল্ডার, মূলত ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। গতকাল ভুটানের বিপক্ষে প্রথম গোলটা এলো কিনা তাঁর কাছ থেকে। দ্বিতীয়ার্ধে এরপর বক্সের বাইরে থেকে করা সোহেল রানার গোলে ২-০ গোলের সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে হাভিয়ের কাবরেরার দল।
সিঙ্গাপুর ম্যাচের আগে ফুটবলারদের ঝালাই করে নেওয়ার ব্যাপার ছিল।
হামজাকে তো আর আলাদা করে দেখার কিছু নেই। কাবরেরা তাঁকে প্রথমার্ধটা খেলালেন। ভারতের বিপক্ষে যেমন প্রতিপক্ষকে সামলাতে বেশ ব্যস্ত থাকতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে, গতকাল তেমন নয়। সোহেলকে নিচে রেখে বারবার আক্রমণে যোগ দিচ্ছিলেন তিনি।
ভুটান সে রকম হুমকি হয়ে উঠতে পারেনি বলেই হয়তো বা। এদিন ভারত ম্যাচ থেকে একাদশে ভালো রকমই পরিবর্তন এনেছিলেন কাবরেরা। জামাল ভূইয়াকে খেলান শুরুর একাদশে ১০ নম্বর হিসেবে, তাঁর দুই পাশে ফাহমিদুল ইসলাম ও কাজেম শাহ। ইতালিপ্রবাসী ফাহমিদুলের তাই অভিষেক হয়েছে জাতীয় দলের জার্সিতে। ১৮ বছর বয়সী এই তরুণ বাঁ প্রান্ত ধরে গতির ঝলক দেখিয়েছেন।
হামজার গোলের পর প্রথমার্ধেই দুটি মুভে সুযোগ এসেছিল তাঁর সামনে। ভারত ম্যাচে এক মিনিটও খেলতে না পারা জামালকেও দেখা গেছে আত্মবিশ্বাসী, কাজেম তাঁকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন।
হামজার পজিশন যা-ই হোক, সেট পিসে তো আর বাধা নেই। আর তিনি দলের সবার চেয়ে বলটা দেখেন আগে, যে দক্ষতায় শিলংয়ে সুনীল ছেত্রীর হেড তিনি রুখে দিয়েছিলেন, সেই একই রকমভাবে জামাল ভূঁইয়ার কর্নারে সবার আগে মাথা ছুঁইয়ে বলটা পাঠিয়েছেন জালে। ম্যাচের তখন মাত্র ৬ মিনিট। সংস্কারে নতুন রূপ পাওয়া ঢাকা স্টেডিয়ামে ফুটবল উত্সবের বোধন এর চেয়ে রঙিনভাবে বোধ হয় আর হতে পারত না।
হামজার ওই গোলের আগেই অবশ্য ডান দিক দিয়ে তারিক কাজি, কাজেম, রাকিব হোসেন আর জামালের সমন্বিত এক মুভে ভুটানিদের গোলমুখ খুলে গিয়েছিল প্রায়। জামাল শেষ শটটা শুধু ঠিকমতো নিতে পারেননি। এরপর জামাল থেকেই হামজা বক্সের ওপর পেয়েছিলেন, তাঁর সেই শট ব্লকড হয়েছে। তবে হামজা গোলের কাছাকাছি থাকা মানেই সুযোগ, ৬ মিনিটে সেটাই করে দেখিয়েছে শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে দারুণ খেলে আসা এই তারকা।
৩০ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে রাকিবের সঙ্গে বোঝাপড়ায় ফাহমিদুল পৌঁছে গিয়েছিলেন গোলের কাছাকাছি। কিন্তু তাঁর নেওয়া নিচু শট ঝাঁপিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছেন ভুটানি গোলরক্ষক। পরের মিনিটেই বাঁ দিক দিয়েই আরেকটা দ্রুত আক্রমণে ফাহমিদুল বক্সের ভেতর বল পেয়েছিলেন, তবে এবারও সুযোগটা পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি তাঁর। এরপর জামাল আরেকটা সুযোগ পান, তাজের ক্রসে রাকিবের ব্যাকহিলে বাংলাদেশ অধিনায়ক যে শটটা নিয়েছিলেন সেটিও ফিরিয়ে দেন প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার।
বলতে গেলে প্রায় পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের ডিফেন্স লাইনকে তেমন চাপ নিতে হয়নি। বিরতির পর একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনেন কাবরেরা। কাজেম, জামাল ও হামজার জায়গায় নামান মোহাম্মদ ইব্র্রাহিম, শেখ মোরসালিন ও মোহাম্মদ হূদয়কে। মিডফিল্ডে কাজেম, হামজাকে একসঙ্গে সুযোগ দিতে গিয়ে কোচ হূদয়কে শুরুতে বেঞ্চে রেখেছিলেন, আস্থা রেখেছিলেন যে সোহেলের ওপর, তিনিই ৫০ মিনিটে অসাধারণ এক গোলে ব্যবধান বাড়িয়ে নিয়েছেন। রাকিবের একটি পাস ভুটানি ডিফেন্ডার পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে না পারলে বল চলে যায় বক্সের একটু বাইরেই দাঁড়ানো সোহেলের পায়ে। সেখান থেকেই পায়ের অসাধারণ এক গোলে জয়ের ব্যবধান বাড়িয়েছেন তিনি।
ওয়াইএফ/০১