107
Sharesবাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে ‘ঘৃণার প্রতীক’ দাবি করে তোপ ছুঁড়লেন ভারতের রাজনৈতিক দল এআইএমআইএম-এর প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। দেশটিতে চলমান হিজাব বিতর্কে যোগ দিয়ে মুসলিম নারীদের এই পোশাকের সমালোচনা করেছিলেন তসলিমা। বিতর্কিত এই লেখিকা দাবি করেন, হিজাব বা বোরকা হচ্ছে নিপীড়নের প্রতীক। তবে তসলিমার এই দাবির প্রেক্ষিতে তাকে পাল্টা ঘৃণার প্রতীক বলে আখ্যায়িত করেছেন আসাদউদ্দিন।
বৃহস্পতিবার ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে’র সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে আসাদউদ্দিন বলেন, আমি এমন কোনও মানুষকে উত্তর দিতে চাই না যিনি ঘৃণার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। এমন কোনও মানুষকে উত্তর দেব না যাঁকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল এবং যিনি ভারতে পড়ে রয়েছেন নিজের দেশে আত্মরক্ষা করতে না পেরে। তাই আমি এখানে বসে তাঁকে নিয়ে কোনও আলোচনা করব না। তসলিমার মন্তব্যের একদিন পরে তাকে নিয়ে এসব কথা বলেন আসাদউদ্দিন।
হিজাব নিয়ে তসলিমার করা মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, লিবারেলরা শুধু তাদের ইচ্ছার স্বাধীনতা নিয়ে খুশি। তারা চায় মুসলিমরাও তাদের মতো আচরণ করবে। ভারতের ডানপন্থী মৌলবাদিরাও আমাদের ধর্মীয় পরিচয় কেড়ে নিতে চায় অথচ সংবিধান নিজেই আমাদের এই নিশ্চয়তা দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র এবং এখানে কেউ কাউকে ধর্ম ত্যাগের কথা বলতে পারে না।
এর আগে ইন্ডিয়া টুডেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তসলিমা নাসরিন বলেছিলেন, হিজাব হচ্ছে নিপীড়নের প্রতীক। তিনি বলেন, হিজাব মূলত সপ্তম শতকে পুরুষতান্ত্রিক মানুষদের দ্বারা প্রবর্তিত একটি পোশাক। সেসময় নারীদের যৌন বস্তু হিসাবে বিবেচনা করা হত। তারা বিশ্বাস করত যে, পুরুষেরা নারীদের দিকে তাকালে পুরুষদের যৌন আকাঙ্ক্ষা হবে। তাই নারীদের হিজাব বা বোরকা পরতে হবে। তাদের পুরুষদের থেকে নিজেদের লুকিয়ে রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কিন্তু আমাদের আধুনিক সমাজে, একবিংশ শতাব্দীতে, আমরা শিখেছি যে নারীরা সমান মানুষ। তাই হিজাব বা বোরকা এখন নিপীড়নের প্রতীক। আমি মনে করি, বোরকা নারীদের শুধু যৌন বস্তুতে পরিণত করে। তার এই মন্তব্যের সমালোচনাই করেন আসাদউদ্দিন ওয়েইসি।