আন্তর্জাতিক



ডেস্ক রিপোর্ট

ফেব্রুয়ারী / ০৮ / ২০২২


dhakacity

নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সরে সৌদি আরবের পক্ষ নেবে পাকিস্তান!


116

Shares

সৌদি আরব এবং ইরানের মধ্যে নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থান রক্ষা করে এসেছে পাকিস্তান। কিন্তু এবার দৃশ্যপট যেন পাল্টে যাচ্ছে। সৌদি আরবের পক্ষ নিতে যাচ্ছে পাকিস্তান। কিন্তু কেন? এ নিয়ে মিডলইস্ট আই-এ একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছেন সাল আহমেদ। তিনি লিখেছেন, মিত্র হিসেবে পাকিস্তানকে সেট করতে সোমবারে একদিনের জন্য পাকিস্তান সফরে আসেন সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সাউদ বিন নায়েফ।

২০১৪ সালে ইয়েমেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে সৌদি আরব। গত বছর সৌদি আরব থেকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে এখন ইরানপন্থি হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামরিক ও কূটনৈতিক সমর্থন কুড়িয়ে বেড়াচ্ছে সৌদি আরব। পক্ষান্তরে এ অঞ্চলে পাকিস্তানেরও বন্ধু প্রয়োজন।

বিশেষ করে সৌদি আরবের কাছ থেকে যে পরিমাণ ঋণ নিয়েছে পাকিস্তান, তা এক্ষেত্রে স্মরণ করা যেতে পারে। সম্প্রতি ইরানভিত্তিক বেলুচ স্বাধীনতাকামীরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি বড় ঘাঁটিকে হামলা চালায়। এতে অনেকে হতাহত হয়েছেন। তাই পাকিস্তানও এখন উপায় খুঁজছে। উপায় খুঁজছে এ অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার জন্য ইরান যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার জবাব কিভাবে দেয়া যায়।

এমন সময়ে ইসলামাবাদ সফরে এসেছিলেন প্রিন্স আবদুল আজিজ। বৃটিশ থিংক ট্যাংক রয়েল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের ভিজিটিং ফেলো উমর করিম মনে করেন, তার এই সফরকে একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিক পাকিস্তান, তিনি সেই চেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি বলেন, ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা চায় সৌদি আরব।

আদর্শগতভাবে তারা চায় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সৌদি আরবে প্রতিরক্ষার ভূমিকায় পাকিস্তানের এক ব্রিগেড সেনা। ইসলামাবাদভিত্তিক থিংকট্যাংক পাকিস্তান হাউজ-এর মহাপরিচালক মুহাম্মদ আতহার জাভেদ বলেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ম্লান হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়ার পর তাদের বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ভয়াবহভাবে কমে গেছে।

২০২১ সালে হুতিরা সীমান্তের ওপাড় থেকে ৩৭৫টি হামলা চালিয়েছে সৌদি আরবে। এর মধ্যে আছে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা। এ তথ্য ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত টিম লেন্ডারকিংয়ের। তিনি আরও বলেছেন, অবশ্যই সৌদি আরব চায় তার আকাশসীমায় হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র থামিয়ে দিতে। কারণ, সম্প্রতি হুতিদের এমন হামলা ও হামলার কৌশল বৃদ্ধি পেয়েছে।

তারা হামলা চালাচ্ছে তেল শোধনাগার, তেলক্ষেত্র, বিমানবন্দর এবং বন্দরে। তিনি মনে করেন আবদুল আজিজের সফরের আর একটি বড় পয়েন্ট হলো গোয়েন্দা তথ্য শেয়ার করা। উমর করিম মনে করেন, সৌদি আরবের মধ্যে ভয় ঢুকে গেছে। তারা মনে করছে সিরিয়া যুদ্ধে অংশ নেয়া ব্যক্তিরা ইয়েমেনে ফিরে হুতিদের সঙ্গে যোগ দিতে পারে। তাতে হুতিদের শক্তি বৃদ্ধি হবে।

তাই এক্ষেত্রে পাকিস্তান তাদেরকে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করছে সৌদি আরব। জয়নাবিয়ুন মিলিটারি ব্রিগেড মূলত শিয়া পাকিস্তানিদের নিয়ে গড়ে উঠেছে। তাদেরকে রিক্রুট করেছে ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ডরা (আইআরজিসি)। সরকারি বাহিনীর পাশাপাশি সিরিয়ায় তারা লড়াই করছে। আবার অনেকে দেশে ফিরে গেছেন। উমর করিম আরও ব্যাখ্যা করেন- সৌদি আরব ও পাকিস্তানের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হলো আইআরজিসির ইসমাইল কানি। তিনি বর্তমানে কুদস বাহিনীর প্রধান। বিদেশি অপারেশনে কাজ করে থাকে ইরানের অভিজাত এই বাহিনী। ইসমাইল কানি একজন আফগান ও পাকিস্তান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ।

সৌদি আরবের ভয়- ইসমাইল কানি আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের তরুণ ও যুবকদেরকে তীব্রভাবে রিক্রুট বা দলে ভেরাতে পারেন। তাদেরকে যোগ দেয়াতে পারেন সাবেক কট্টর লড়াইবাজ জয়নাবিয়ুন যোদ্ধাদের সঙ্গে। তারপর তাদেরকে পাঠিয়ে দেয়া হতে পারে ইয়েমেনে। সৌদি আরবের প্রত্যাশা এমন রিক্রুটমেন্ট প্রক্রিয়া যেন বন্ধ করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। এর আগে ওই ব্রিগেডের জন্য আইআরজিসি পাকিস্তানি শিয়াদের রিক্রুট করছে বলে জানতে পেরেছিল পাকিস্তানি গোয়েন্দা এজেন্সিগুলো।

তারা তখন এ প্রক্রিয়ায় বাধা দেয়নি। কিন্তু এখন সৌদি আরব চাইছে পাকিস্তান যেন এই প্রক্রিয়া বন্ধ করে। উমর করিম আরও বলেন, দৃশ্যত মনে হচ্ছে পাকিস্তান এ জাতীয় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করতে পারে। তার মতে, এতে দুটি কাজ হাসিল হবে। তা হলো, একই সঙ্গে সিরিয়া ফেরত দুর্বৃত্তদের বিষয়ে কড়া নজর রাখবে পাকিস্তানি গোয়েন্দারা।

অন্যটি হলো ইরানিরা শিয়াদের রিক্রুট করার কোনো উদ্যোগ নিয়েছে কিনা। আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো কামাল আলম। তিনি বলেন, হুতিদের অর্থায়ন এবং অস্ত্র সরবরাহ দেয়া বন্ধে ইরানের ওপর আরো কূটনৈতিক চাপ প্রত্যাশা করে সৌদি আরব। তবে ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক আছে পাকিস্তানের বেসামরিক সরকারের।

ফলে বর্তমান উত্তেজনা প্রশমনে এক্ষেত্রে বড় চাপ বাড়তে পারে পাকিস্তানের ওপর। এমনিতেই ঘরে আগুন পাকিস্তানের। তার ইতিহাসে জাতিগত সহিংসতার ভয়াবহতা আছে। তাই তারা এর আগে ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সক্রিয় লড়াইয়ে ভূমিকা রাখতে অনীহা প্রকাশ করে। কিন্তু এখন সেই অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে।

২০১৮ সালে সৌদি আরবে বিমান প্রতিরক্ষা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ, বিশেষ বাহিনী এবং মাইনবিরোধী একটি ব্রিগেড পাঠায় পাকিস্তান। কামাল আলম বলেন, এখন ইরান পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের কিছু আছে পাকিস্তানের।

বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী মিলিট্যান্ডদেরকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে ইরান- এ অভিযোগ পাকিস্তানের। বলা হচ্ছে, সেখান থেকেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হচ্ছে। কামাল আলম বলেন, সম্প্রতি দিনে গড়ে ৫ জন করে সেনাকে হারাচ্ছে পাকিস্তান।

এতে পাকিস্তানে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তার ভাষায়, আমি একেবারেই নিশ্চিত যে, সৌদি আরবে সেনা পাঠাবে না পাকিস্তান। তবে পাকিস্তান সরকার ঘরে বসেই ইরানের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক লড়াইয়ে নামতে পারে।

আন্তর্জাতিক