আন্তর্জাতিক



ডেস্ক রিপোর্ট

ফেব্রুয়ারী / ১৬ / ২০২২


sylhet city

ইন্দোনেশিয়ায় ১৩ ছাত্রীকে ধর্ষণ, শিক্ষকের জেল


114

Shares

ইন্দোনেশিয়ায় ১৩ ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে জেল দেয়া হয়েছে শিক্ষক হেরি বীরাওয়ানকে। একটি বোর্ডিং স্কুলের মালিক সে।

অভিযোগ আছে, সে ১১ থেকে ১৬ বছর বয়সী ছাত্রীদের ধর্ষণ করেছে। এ বিষয়টি আলোর মুখ দেখে গত বছর। অনলাইন বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ২০১৬ সাল থেকে ওইসব ছাত্রীকে ধর্ষণ করে সে। এতে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে তাদের আটজন।

তারা নয়টি সন্তান জন্ম দিয়েছে। এ অভিযোগে শাস্তি হিসেবে তার মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন প্রসিকিউটররা। কিন্তু বুন্ডাং ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট মঙ্গলবার তার রায়ে বলেছে, ৩৬ বছর বয়সী ওই শিক্ষককে যাবজ্জীবন জেল দেয়া হবে। রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় তার মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছিলেন প্রসিকিউটররা। বিচারক তাও প্রত্যাখ্যান করেছে।

কয়েক বছরের এই নির্যাতনের ঘটনা আলোর মুখ দেখে গত বছর মে মাসে। এ সময় ছাত্রীদের একজনের মা আবিষ্কার করেন তাদের কন্যা অন্তঃসত্ত্বা। এ নিয়ে আদালতে শুনানি হয়। তাতে বিচারক যাচাই করে দেখেন ২০১৬ সাল থেকে কিভাবে বীরাওয়ান ওইসব ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন করেছে। ওই বছর পশ্চিম জাভার ব্যান্ডাং শহরে ইসলামিক বোর্ডিং স্কুল চালু করে বীরাওয়ান।

স্থানীয় মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, বীরাওয়ান স্থানীয় শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ দেয়ার প্রস্তাবে তার স্কুলে আকৃষ্ট করে। এছাড়া অবহেলিত এলাকার তরুণ-যুবকদের অন্যান্য প্রণোদনা প্রস্তাব করে। আদালতের শুনানিতে বলা হয়, এই ছাত্রীরা অধিক পরিমাণ বিপন্ন। কারণ, তারা পরিবার থেকে দূরে থাকতো। নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল না। তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়া হয়েছিল। বছরে একবার বাড়ি যেতে দেয়া হতো।

এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তি দাবি করেন প্রসিকিউটররা। পাশাপাশি ভিকটিমদের জন্য কমপক্ষে ২১ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। বীরাওয়ানের এই ঘটনায় ইন্দোনেশিয়ায় নারীর বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা ও নির্যাতন বৃদ্ধিতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে লোকজন। ফলে একটি আইন করতে উদ্যোগ গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষ। এই আইনটি কার্যকর করতে প্রায় এক দশক ধরে তদ্বির করতে থাকেন নারী অধিকারকর্মীরা।

কিন্তু বিষয়টি পর্যায়ক্রমে বিলম্বিত হতে থাকে। ধর্মীয় এবং ইসলামিক গ্রুপগুলো এ বিলের বিষয়ে যুক্তি দেখায় যে, এতে যৌন নির্যাতন, বিবাহিত জীবনে ধর্ষণ ও অন্যান্য যৌন সহিংসতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।

আন্তর্জাতিক