153
Sharesগোতাবায়া রাজাপাকসে দেশ ছেড়ে পালানোর পর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর দখলে নিয়ে বিক্ষোভ করে দেশটির জনগণ। বিক্ষোভকারীদের থামাতে যা যা করার তাই করতে সেনাবহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে।
বুধবার এক টেলিভিশন বক্তৃতায় বিক্ষোভকারীদের ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যায়িত করে তিনি এ নির্দেশ দেন। খবর বিবিসির। সেনাবাহিনীর উদ্দেশে বিক্রমাসিংহে বলেন, ‘শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের জন্য যা যা করা দরকার, তাই করুন।
আমরা আমাদের সংবিধানকে ছিন্ন করতে পারি না। আমরা ফ্যাসিস্টদের ক্ষমতা দখল করতে দিতে পারি না। আমাদের গণতন্ত্রের জন্য এই ফ্যাসিবাদী হুমকির অবসান ঘটাতে হবে।’
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় ভবন দখলকরা বিক্ষোভকারীদের সেগুলো ছেড়ে যেতে এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি। তার বিবৃতি থেকে ধারণা করা হচ্ছে, রাজধানী কলম্বোতে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা জোরদার করা হতে পারে।
স্থানীয় সময় বুধবার ভোর ৩টায় দেশ ছেড়ে মালদ্বীপ পালান গোতাবায়া রাজাপাকসে। এখবর সামনে আসার পরই মিছিল করে প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের দপ্তরের দখল নেয় হাজারো বিক্ষোভকারী। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে সেনাবাহিনী।
বিক্ষোভকারীরা টিয়ার গ্যাস উপেক্ষা করে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা দেয়াল ভেঙে প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের গেইট খুলে ফেলার চেষ্টা করে। তবে চরম এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে নিজ দপ্তরে নেই বিক্রমাসিংহে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পক্ষ থেকে সারা দেশে জরুরি অবস্থা জারি এবং পশ্চিম প্রদেশে কারফিউ জারির পাশাপাশি কিছু আদেশ জারি করেছেন তিনি। এর আগে শনিবার বিক্ষোভকারীরা গোতাবায়ার বাসভবন দখল করলে প্রধানমন্ত্রীত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন রনিল বিক্রমাসিংহে।
যদিও তিনি তার পদত্যাগের সময় জানাননি। বিক্ষোভকারীরা তার ব্যক্তিগত বাড়িতে আগুন দেয় সেই রাতে। গোতাবায়ার দেশ ত্যাগের পর পার্লামেন্ট স্পিকার মাহিন্দা ইয়াপা আবেবর্ধনে রনিলকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, ‘আমরা চাই রনিল পদত্যাগ করুক। যারা গোতাকে পালাতে সাহায্য করেছে তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করুন। আমরা আমাদের চুরি হওয়া টাকা ফেরত চাই।’