109
Sharesপূর্বাঞ্চলে রাশিয়াপন্থি বিদ্রোহীদের সঙ্গে ভয়াবহ উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও তাদের উস্কানিতে জবাব দেবে না ইউক্রেন। তবে রাশিয়া যদি আগ্রাসন চালায়, তাহলে তার দেশ আত্মরক্ষা করবে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি। জার্মানির মিউনিখে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেছেন। এরই মধ্যে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী এবং রাশিয়া সমর্থিত বিদ্রোহীদের সংঘর্ষের তৃতীয় দিনে ইউক্রেনের দু’জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন চালানোর দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। এমন মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টে জো বাইডেন। তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে মস্কো। কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ আগ্রাসন চালানোর মতো প্রেক্ষাপট তৈরিতে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে একটি ভুয়া সঙ্কটময় পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে রাশিয়া।
মিউনিখ নিরাপত্তা বিষয়ক কনফারেন্সে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, এসব নিয়ে আতঙ্কিত নয় ইউক্রেনের মানুষ। আমরা আমাদের জীবন নিয়ে বাঁচতে চাই। মস্কোর প্রতি ‘তুষ্টির নীতি’ গ্রহণের জন্য পশ্চিমা নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন তিনি। একই সঙ্গে ইউক্রেনকে নতুন নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেয়ার দাবি করেছেন জেলেনস্কি। দেশে যুদ্ধময় পরিস্থিতি বিরাজ করলেও জেলেনস্কির মিউনিখ সফর নিয়ে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, এ সময়ে দেশ ছাড়া তার জন্য নিরাপদ নয়।
কিন্তু দেশের পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীকে আলাদা করা রেখায় হামলা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলেছেন, শুধু শনিবারে ডোনেৎস্ক এবং লুহানস্ক অঞ্চলে কমপক্ষে ১৪০০ বিস্ফোরণ ঘটেছে। এদিন ফ্রন্টলাইন সফরে ছিলেন ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডেনিস মোনাস্তিরস্কি। তিনি ভারি গোলা বর্ষণের শিকার হন। দ্রুত আশ্রয় নেন একটি ‘বোম্ব শেল্টারে’। ওদিকে স্বঘোষিত ডোনেৎস্ক এবং লুহানস্ক থেকে সব যুদ্ধবয়সী পুরুষকে ‘মোবিলাইজ’ করার নির্দেশ দিয়েছে বিদ্রোহীরা।
অন্য বেসামরিক ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে লোকজনকে উদ্ধার করে রাশিয়ায় পাঠানোর। কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই তারা অভিযোগ করেছে, হামলা করার পরিকল্পনা করছে ইউক্রেন। বিদ্রোহীদের উদ্ধার তৎপরতায় সাড়া দেয়নি অনেক মানুষ। তারা নিজেদের বাড়িতে অবস্থান করছেন। শনিবার বিদ্রোহীদের দখলে থাকা অঞ্চলের ভিতরে বেশ কিছু হামলা বা হামলার উদ্যোগ সম্পর্কিত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে রাশিয়ার মিডিয়া। এসব রিপোর্ট কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করা নয়।
এ হামলার ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে রাশিয়া। পক্ষান্তরে এমন হামলার কথা প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেন। বলা হয়েছে, ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রোস্তোভ অঞ্চলে রাশিয়ার ভিতরে গোলা বিস্ফোরিত হয়েছে। এমন গোলা বর্ষণের অব্যাহত খবর আসার মধ্যে সর্বশেষ দেশ হিসেবে নিজেদের নাগরিকদের ইউক্রেন ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে জার্মানি ও ফ্রান্স। সোমবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য ইউক্রেনে ফ্লাইট স্থগিত করতে যাচ্ছে জার্মান বিমান সংস্থা লুফথানসা। মিউনিখে পশ্চিমা নেতারা যখন বৈঠক করছেন তখন রাশিয়া তার সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে আরও একবার জানান দিয়েছে।
এদিন তারা বলেছে, পারমাণবিক মহড়ার অংশ হিসেবে অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে তারা। এর তত্ত্বাবধান করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। ইউক্রেন সীমান্তের কাছে বেলারুশেও সামরিক মহড়া করছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেছেন, রাশিয়ান বাহিনী ইউক্রেন সীমান্তে তাদের জট খুলেছে এবং ক্রমশ সীমান্তের কাছাকাছি অগ্রসর হচ্ছে। এর আগে মিউনিখ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস। তিনি ইউক্রেনে আগ্রাসনের একটি ভুয়া অজুহাত খোঁজার জন্য মস্কোকে অভিযুক্ত করেছেন। সতর্ক করেছেন এই বলে যে, হামলা চালালে রাশিয়াকে ভয়াবহ ও দ্রুত পরিণতি ভোগ করতে হবে।