117
Sharesকিয়েভে বিধ্বংসী হামলা শুরু করেছে রুশ সেনারা। এ অবস্থায় ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তা সোমবার দাবি করেছে আর মাত্র ১৪ লড়াই চালিয়ে যেতে পারবে পুতিন বাহিনী।
বারবার ইউক্রেনীয়দের প্রতিরোধ রুশ আক্রমণে বাদ সাধার দরুন পুতিনের পরিকল্পিত আক্রমণ দ্বিধাগ্রস্ত ও দীর্ঘায়িত হয়েছে। তাই বাকি সময়ের মধ্যে রুশ সেনার অবৈধ আগ্রাসনে সফল হতে পারবে না। অন্য দিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও দাবি করেছেন, বিভ্রান্ত রুশ যোদ্ধারা অস্ত্র ফেলে যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাচ্ছে। রুশ বাহিনীকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রয়টার্স। ব্রিটেনের ঊর্ধ্বতন প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো গত রাতে ইঙ্গিত করেছে, ইতোমধ্যে দখলকৃত ইউক্রেনীয় অঞ্চলগুলো হাতছাড়া করবে রুশ বাহিনী।
তাদের মতে, পলায়নপর রুশ সেনারা আর মাত্র বড়জোর সপ্তাহ দুয়েক তাদের লড়াই অব্যাহত রাখতে সক্ষম হবে। আর তখনই ইউক্রেনের প্রতিরোধের কাছে পরাজিত হবে রুশ সেনারা। যদিও, মস্কোর জনবল কম থাকায় ইউক্রেনজুড়ে রুশদের যুদ্ধ অগ্রগতি স্তিমিত হয়ে পড়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সাম্প্রতিক এক ভাষণে সেই আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, তার সামরিক বাহিনী রাশিয়ান সৈন্যদের ব্যাপক ক্ষতিসাধন অব্যাহত রেখেছে। শিগগিরই রাশিয়ার বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারের সংখ্যা কয়েকশ ইউনিটে পৌঁছে যাবে।
তারা ইতোমধ্যে ৮০টি যুদ্ধবিমান হারিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শত শত ট্যাংক এবং হাজার হাজার অন্যান্য ইউনিট সরঞ্জাম। জেলেনস্কি আরও দাবি করেন, চেচনিয়ায় দুটি রক্ষক্ষয়ী এবং বছরের পর বছর ধরে চলা যুদ্ধের চেয়ে ইউক্রেনে গত ১৯ দিনে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রুশ বাহিনী।
রুশমিত্ররাও সমালোচনায় বলছেন-পরিকল্পনাহীন ‘তোতলামি আক্রমণ’ চালাচ্ছেন পুতিন। একবার পুতিনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রাশিয়ান ন্যাশনাল গার্ডের প্রধান ভিক্টর জোলোটভ মঙ্গলবার স্বীকার করেছেন, ‘সবকিছু আমাদের পছন্দমতো দ্রুত হচ্ছে না।’ তবে তিনি এখনো জোর দিয়ে বলছেন, ‘ধাপে ধাপে বিজয় অর্জন করবে রাশিয়া।’ কিন্তু, রাশিয়ার আগ্রাসন চিন্তা ব্যর্থ হওয়ায় তাদের আক্রমণ পদ্ধতি আরও নৃশংস হয়ে উঠেছে। নির্বিচারে রকেটফায়ারের আওতায় আসছে ইউক্রেনের শহরগুলো।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানী কিয়েভে আরেক দফা বোমা হামলায় পুড়ে অঙ্গার হয়েছে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন। এখানে হতাহতের সঠিক কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। রাশিয়ান সৈন্যরা বন্দরনগরী খারকিভে আরও বিধ্বংসী হামলা শুরু করেছে।
কিয়েভ, খারকিভ এবং চেরনিহিভকে ঘিরে রাখা রাশিয়ার অবস্থানকে উন্নত দেখাবে এবং দৃশ্যকল্পটিকে বিজয় হিসাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করতে পারেন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ‘প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জনসংখ্যার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই শহরগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে।’